মাগুরা প্রতিদিন : ৩০ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে আছেন জলিল উদ্দিন মোল্যা। বয়স এখন ৯৫। বার্ধক্য আর নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন দীর্ঘদিন। কিন্তু কারাবন্দি জীবনের সীমাবদ্ধতায় নিয়মিত চিকিৎসা যেন তার জন্য বিলাসিতা। জলিলের মতো আরও অনেক বয়স্ক ও অসুস্থ বন্দির বাস্তবতা সামনে এনে এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে মাগুরা জেলা কারাগার।
প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি, যেখানে বন্দিদের জন্য কারাগারের ভেতরেই গড়ে তোলা হয় অস্থায়ী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে ৪৫ জন বন্দির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
রক্তের লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, ইসিজি, আরবিএসসহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্নের পাশাপাশি চিকিৎসকদের পরামর্শও দেওয়া হয় বন্দিদের। এতে করে দীর্ঘদিনের অসুস্থ বন্দিরা যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি কমছে অদৃশ্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাগুরা সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির। উপস্থিত ছিলেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহসনি উদ্দিন ফকির, কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. এজাজ আহম্মেদ রোচি এবং নার্স বদিউজ্জামান।
চিকিৎসকদের মতে, কারাগারে থাকা অনেক বন্দি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ পান না। ফলে ছোটখাটো রোগও বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়। এ ধরনের উদ্যোগ সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।
ডা. শামীম কবির বলেন, মানুষ হিসেবে প্রত্যেক বন্দিরই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু চিকিৎসা নয়, বরং একটি মানবিক বার্তা বহন করছে।
জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার জানান, মাগুরা কারাগারের ধারণক্ষমতা ১৭২ জন হলেও বর্তমানে এর দ্বিগুণের বেশি বন্দি এখানে অবস্থান করছেন। ফলে বিশেষ করে বয়স্ক বন্দিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি,-বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ভবিষ্যতে নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কারাগারগুলো কেবল শাস্তির জায়গা নয়, বরং সত্যিকারের সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে উঠবে।